1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার মোহাম্মদ আসগরের ইন্তেকাল: দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে শোকের ছায়া আগামী ৩ বছরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ফ্যাশন ও আভিজাত্যে নতুন রূপে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ডেসকোর ঝটিকা অভিযান: মিরপুর ও গুলশানে জরিমানা ও মালামাল জব্দ টাইগার পেসার নাহিদ রানার বোলিং গতিতে মুগ্ধ কিউই স্পিনার ইশ সোধি রাজধানীর হকারদের দ্রুত পুনর্বাসন ও যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা আড়াই হাজার টাকায় স্মার্টফোন সরবরাহের উদ্যোগ: লক্ষ্য ডিজিটাল বৈষম্য নিরসন শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারালো বাংলাদেশ নারী দল

দেড় মাসে হাম ও হামের উপসর্গে ২৫১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৩১ হাজার ছুঁইছুঁই

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সারা দেশে গত দেড় মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং এই রোগের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে ৪২টি শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ২০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে দেশে ৩০ হাজার ৬০৭ শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের (২৫ এপ্রিল) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। গত দেড় মাসে কেবল ঢাকা বিভাগেই ১২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭১০ জন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ১ হাজার ২৮৭ জন শিশু হাম বা হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম বা জনঘনত্ব বেশি, সেখানে সংক্রমণের প্রকোপ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ যা বায়ুর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুর সর্দি, কাশি এবং জ্বরের পাশাপাশি শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দেয়। যথাযথ সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা টিকা গ্রহণ না করলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুদের মধ্যে পুষ্টির অভাব বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে এই রোগের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

জনস্বাস্থ্যবিদরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা শহরের ঘিঞ্জি এলাকা ও বস্তি অঞ্চলগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশন বা আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন-এ নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব।

মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং জনবল প্রস্তুত রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অভিভাবকদের সচেতন করতে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা কেন্দ্রে নিতে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026