শিক্ষা ডেস্ক
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, শিক্ষকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সমীচীন নয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে, তবে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় সরাসরি রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষকরা যদি রাজনীতি করতে চান, তবে তাদের পেশা ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ ধরনের বিষয় কোনোভাবেই সহনীয় হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব শুধুমাত্র মন ভোলানো কথা বলা নয়; জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তবতা তুলে ধরা জরুরি, যা অজনপ্রিয় হলেও সমাজ ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয়। কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাজ মানুষের জন্য, স্বল্প সময়ের দায়িত্বে থাকলেও এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ তাদের দীর্ঘদিন মনে রাখে।
ডেপুটি স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গুরুত্বের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, তারা ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনেতা ও দেশনেতার গঠনে মূল ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষকদের উচিত রাজনীতি থেকে দূরে থেকে শিক্ষাদানে মনোযোগী হওয়া। তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা অন্য যে কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে, এবং সেই ভিত্তি নির্মাণ করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
কায়সার কামাল শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো করে দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসার সময় সে কেবল কোনো অভিভাবকের সন্তান নয়, শিক্ষকেরও সন্তান।
ডেপুটি স্পিকার দেশের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার মান ও মূল্যবোধের চর্চায় আগের তুলনায় পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে সমাজে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমদাদুল হক, সদস্য সচিব রাজা হান্নান তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মিকাইল ইসলাম, শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, মিনহাজ বেগম, বনানী জামিল ও শিউলি রানী চন্দ। সভায় উপজেলার ১৭২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন।