বাংলাদেশ ডেস্ক
চারদিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি পাবনা শহিদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়াম হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা ও পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতিকে সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে পাবনা জেলায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির অবস্থানকালীন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত স্থানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম দিন তিনি সার্কিট হাউজে অবস্থান ও বিশ্রাম গ্রহণ করবেন। পরদিন রোববার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টায় পাবনা সদর উপজেলার আরিফপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে গিয়ে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবেন। এ সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিকে দেখা হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি পারিবারিকভাবে সময় ব্যয় করবেন।
একই দিনে সন্ধ্যায় পাবনা প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। এ বৈঠকে তিনি দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক অগ্রগতি নিয়ে মতামত বিনিময় করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে সরাসরি তথ্য জানার সুযোগও তৈরি হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পাবনা সদর উপজেলার ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন। ধর্মীয় এই স্থাপনাটি পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই দিনে সন্ধ্যায় তিনি পাবনা শহরের জুবলী ট্যাংক এলাকার নিজ বাসভবনে যাবেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই অংশটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।
সফরের শেষ দিন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পাবনা ক্যাডেট কলেজ পরিদর্শনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে পাবনা ত্যাগ করবেন। ক্যাডেট কলেজ সফরের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে পাবনায় প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং জনসাধারণের চলাচলে সাময়িক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির নিজ জেলা সফর প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম মূল্যায়নের একটি সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের সফরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের যোগাযোগ জোরদার হয় এবং বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি অবগত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সামগ্রিকভাবে, চারদিনের এই সফরে রাষ্ট্রপতি সরকারি, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন, যা স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।