বাংলাদেশ ডেস্ক
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সফরে ঢাকায় আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। তিনি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছাবেন।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, কাপুরের সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। এই সফরের সময় তিনি নতুন সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পল কাপুর ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাপুর এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত দ্বিতীয় ব্যক্তি, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কূটনৈতিক পদে প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরো জানিয়েছে, কাপুরের সফর কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্ব বহন করবে। তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সহযোগিতা, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিষয়ে আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং অঞ্চলে মার্কিন নীতি নির্ধারণে এই সফরের মাধ্যমে নতুন বার্তা প্রেরণ করা হতে পারে।
ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে কাপুর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া দেশের বেসরকারি খাত ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায়, এই সফরের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত গভীর হচ্ছে দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক cupsর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।