আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সংক্রান্ত এক সংবাদ প্রতিবেদনকে ‘ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত সোমবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে দাবি করেন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ প্রতিরোধে কোনো অবস্থান গ্রহণ করেননি এবং প্রেসিডেন্টের হুমকিমূলক নীতি অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ‘সহজেই জয় করা সম্ভব’ বলে মনে করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া মূলত এমন এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছিল জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের উপর সামরিক হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, সম্ভাব্য হামলা দীর্ঘযুদ্ধের আকার নিতে পারে এবং মার্কিন সেনাদের হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প এই প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, চেয়ারম্যান হিসেবে জেনারেল কেইনের দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প, সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা। তবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেসামরিক নেতৃত্বের অধীনে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, এসব পরামর্শ সাধারণত গোপনীয়ভাবে দেওয়া হয় এবং তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, জেনারেল কেইন যুদ্ধ চান না এবং সাধারণ মানুষের মতোই যুদ্ধের বিরোধী। তবে যদি প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে কেইনের মতে তা ‘সহজেই জয় করা সম্ভব’। এছাড়াও ট্রাম্প দাবি করেন, গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর যে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তা জেনারেল কেইনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নানা বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন ধরণের কূটনৈতিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবারের পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, তিনি চুক্তি সম্পাদন করতে আগ্রহী, যুদ্ধ নয়। তবে চুক্তি ব্যর্থ হলে তা ইরান ও তাদের জনগণের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জেনারেল কেইনকে ‘দুর্দান্ত যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান ও প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। তদুপরি, জেনারেল কেইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রকাশিত বিবৃতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে এ ধরনের প্রকাশ্য তফাৎ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।