বিনোদন ডেস্ক
দক্ষিণী ভারতের প্রখ্যাত অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু জীবনের একটি কঠিন অধ্যায় পার করে নতুন করে ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর, কোয়েম্বত্তূরে ঘরোয়া পরিবেশে, তিনি পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এর আগে, ২০২১ সালে অভিনেতা নাগ চৈতন্যর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর সামান্থা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি প্রকাশ করেছিলেন যে, হয়তো আর কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারবেন না এবং সেই সময়ে নিজেকে মানসিকভাবে বন্ধ করে ফেলেছিলেন। দীর্ঘ সময় অবসাদ ও অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই অধ্যায়ে সামান্থার দৈনন্দিন জীবনেও অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছিল। শ্বাসকষ্টসহ মানসিক চাপ অনুভব করতেন তিনি, এমনকি কথা বলার সময়ও অস্বস্তি অনুভব করতেন।
তবে সামান্থার মতে, ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস কখনো পুরোপুরি হারায়নি। সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নতুন সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমানে রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধুমাত্র দাম্পত্য নয়, বরং গভীর বন্ধুত্বেরও পরিচায়ক। দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি তাঁরা একসঙ্গে দৈনন্দিন জীবন কাটাচ্ছেন—শরীরচর্চা, খেলাধুলা এবং অন্যান্য সাধারণ কার্যক্রমে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।
সামান্থার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের জীবনধারা নতুন বিয়ের উচ্ছ্বাসের চেয়ে বেশি স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “আমি যখন বিচ্ছেদের যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। কাউকে বিশ্বাস করতে পারতাম না। সেই সময়ে রাজ যে বন্ধুত্ব ও সমর্থন দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছে, তার জন্য আজ আমি আরও ভালো মানুষ হতে পেরেছি।”
সম্প্রতি এক বন্ধুর মন্তব্য তাকে নিজের পরিবর্তনের উপলব্ধি করিয়েছেন। বন্ধু বলেছেন, “অনেক দিন পর তোমার সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, তুমি আর অভিনয় করছ না।” এই মন্তব্য সামান্থাকে তার জীবন ও মানসিক অবস্থার উন্নতি উপলব্ধি করাতে সহায়ক হয়েছে।
সামান্থা রুথ প্রভু জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে নিজের জন্য নতুন সংজ্ঞা খুঁজে পেয়েছেন—নিজের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং স্বাভাবিক জীবনের মূল্যবোধ। বর্তমান সময়ে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ এবং স্বস্তিতে রয়েছেন। দাম্পত্য ও বন্ধুত্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই নতুন জীবন, সামান্থার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামান্থার অভিজ্ঞতা তার ভক্ত এবং সাধারণ মানুষকে দেখাচ্ছে, জীবনের কঠিন পরিস্থিতি পার করে ব্যক্তিগত পুনর্জীবন সম্ভব এবং আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসা নতুনভাবে অর্জন করা যেতে পারে। নতুন জীবনের শুরুতে সামান্থা নিজেকে পুনরায় সনাক্ত করতে পেরেছেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মূল্য ও মানে নতুন করে উপলব্ধি করেছেন।