জাতীয় ডেস্ক
সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয় ছিল। উপস্থিত ছিলেন অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা। বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে কার্ডটির মাধ্যমে জনগণের সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ, কর্মসূচির কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা সমাধানের উপায় নির্ধারণ করা।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি কেন্দ্রীয় উদ্যোগ, যার লক্ষ্য পরিবারভিত্তিক তথ্যাবলী সংরক্ষণ ও সুবিধা প্রদান কার্যক্রমকে সমন্বিত করা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত তথ্য সহজে যাচাই ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। এছাড়া এটি সরকারি বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাগুলো স্বচ্ছভাবে বিতরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিকগুলোতে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেটা সংরক্ষণ, আপডেট এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের অংশ হিসেবে কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক বাস্তবায়ন হলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হিসেবে সরকারি কাঠামোর মধ্যে নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি দেশের সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে এবং দারিদ্র্য ও অসাম্য হ্রাসে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।