রাজনীতি ডেস্ক
গত বছরের আগস্টে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তখন অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, অভিনেত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী ও নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। সংবাদগুলোতে বলা হয়েছিল, লাগেজে মদ পাওয়া সত্ত্বেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ না করে তাঁদের ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনার পর অভিনেত্রী সমালোচনার মুখে পড়েন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি জানান, বিমানবন্দরে তাঁকে কখনোই থামানো হয়নি, এবং তাঁর কোনো লাগেজ আটক করা হয়নি। মেহজাবীন আরও বলেন, তাঁর লাগেজে অভিযোগে উল্লেখিত কোনো বস্তু পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। তিনি পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা তাঁর লাগেজ থেকে কোনো অবৈধ বস্তু উদ্ধার হয়েছে—এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ কি আছে। মেহজাবীন দাবি করেছেন, প্রমাণ ছাড়াই তাঁর ছবি ব্যবহার করে যে সংবাদগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন এবং উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, সম্প্রতি মানহানি বা কুৎসা ছড়ানো একটি স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তা অনুযায়ী একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি যে তাঁর লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে। এর প্রেক্ষিতে মেহজাবীন ইতোমধ্যেই মানহানিকর প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এর আগে গত রবিবারও একটি পোস্টে মেহজাবীন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, সম্প্রতি তাঁকে বিভিন্নভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েও আদালত থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিনেত্রী সাংবাদিক এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
মেহজাবীনের এই বক্তব্য, গত বছরের বিমানবন্দর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে সকল দাবী উঠে এসেছে, সেগুলোকে ভিত্তিহীন এবং প্রতারণামূলক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তির ছবি বা তথ্য প্রমাণ ছাড়া ব্যবহার করলে তা মানহানিকর হতে পারে এবং আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। অভিনেত্রীর আইনি পদক্ষেপও এই প্রেক্ষাপটে আলোচিত হচ্ছে।
মেহজাবীনের অভিযোগের ভিত্তিহীনতার প্রকাশ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা সামাজিক ও মিডিয়া পরিবেশে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সংবাদ প্রকাশের নৈতিক দিক নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। এ ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত হচ্ছে।