বাংলাদেশ ডেস্ক
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল এই দুই আসনের জন্য ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল প্রকাশ করা হবে।
বগুড়া-৬ আসনের শূন্যস্থান সৃষ্টি হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান-এর কারণে। গত নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে জয়ী হন। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা প্রকাশ করে কমিশনে ঘোষণাপত্র দাখিল করেন। কমিশন ওই তারিখ থেকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের শূন্যস্থান হয়েছে প্রার্থী মৃত্যুতে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে কিডনিজনিত জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী মৃত প্রার্থীর কারণে ওই আসনের সংসদ নির্বাচন স্থগিত করে।
উপনির্বাচন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইসি সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারণ করা হবে ভোট ঘোষণা ও প্রচারণা কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। মনোনয়নপত্র যাচাই ও চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের তারিখও তফসিলে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উপনির্বাচন শুরুর আগে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি নেবে। বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ফলাফল আগামী নির্বাচনী সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ উভয় আসনেই স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা মনোনয়ন নিয়েছেন।
গত কয়েকটি নির্বাচনী পর্বে এ দুই আসনের ভোটার সংখ্যা এবং অংশগ্রহণের হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার এবং শেরপুর-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর ফলে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনও যুক্ত হতে পারে।
উপনির্বাচনের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠে রাখবে। প্রশাসনিক তৎপরতা, নির্বাচন নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা করা হবে যাতে ভোট কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচিত হবে। কমিশন আশা করছে, উভয় আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন।