রাজনীতি ডেস্ক
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বলেছেন, দলমত ও জাতি নির্বিশেষে সকলকে এক করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো খেলাধুলা। তিনি জানিয়েছেন, সরকার একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী ও স্বচ্ছল করতে কাজ করছে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার লক্ষ্য রাখছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত ‘ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক পরামর্শমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিগত এক বছরে দেশের ক্রীড়াঙ্গণের সফলতা, ব্যর্থতা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্য প্রতিটি ফেডারেশনকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনগুলোও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই প্রতিবেদন পেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়া ফেডারেশনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে চাই। পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর আনুষ্ঠানিক নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।”
ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকে সরকার কাজ করছে। জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনকে তাদের জাতীয় খেলোয়াড়দের তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এই তালিকা যাচাই-বাছাই করে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রতিভাবান খেলোয়াড় অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় নিষ্ক্রিয় ফেডারেশনগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমজাতীয় ফেডারেশনগুলোকে একীভূত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ক্রীড়া সামগ্রীর ওপর ট্যাক্স হ্রাস এবং বিদ্যমান তফসিলভুক্ত ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ফান্ডকে খেলাধুলায় বিনিয়োগ করার সম্ভাবনাও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।
এই উদ্যোগগুলো ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমের নিয়মিত মূল্যায়ন ক্রীড়াঙ্গণকে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণ বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে এবং সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশকে আরও দৃঢ় করতে এই নতুন উদ্যোগগুলো ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।