রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, দলটি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং বহুদলীয় ও পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রকে সমর্থন করে। তিনি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে নরসিংদীর পাঁচটি আসনের বিএনপি সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নরসিংদী-১ আসনের সাংসদ খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনের স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, নরসিংদী-৫ আসনের আশরাফ উদ্দিন এবং নরসিংদী-২ আসনের সাংসদ ড. আবদুল মঈন খান নিজ নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “আমাদের দলীয় অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা থেকে দেশের নিরীহ মানুষকে রক্ষা করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিবাদের ঝাণ্ডা উঁচু করেছিলেন। আমরা সেই আদর্শ এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাসে দৃঢ়।”
তিনি আরও বলেন, “একদলীয় বাকশাল শাসনের ধারণা, যা আওয়ামী লীগ দেশে চাপিয়ে দিয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং রাজনীতি করি উদারনৈতিকভাবে। আমাদের দল প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, এটি বারবার দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন।”
ড. আবদুল মঈন খান বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতি দলটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আমরা বারবার ফিরিয়ে এনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি। এই গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি দলের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিএনপি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল। আমরা সকলের সঙ্গে সহযোগিতামূলক রাজনীতি করি। আমাদের লক্ষ্য দেশের সংবিধান, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা। দলের সকল কার্যক্রম সেই দিকনির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বার্তা দলটির জনগণ ভিত্তিক নীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারকে পুনঃপ্রকাশ করছে। এটি বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অবস্থানকে স্পষ্ট করতে সাহায্য করছে, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন কার্যক্রমকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নেতারা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং দলীয় একতার উপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংসদরা বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংবিধানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিএনপির এই অবস্থান পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দলটি নির্বাচনী মরসুম ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জনগণমুখী ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে চায়। দলের নেতারা বলেন, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার রক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।