ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রায় ৭০ লাখ টিকিটের বিপরীতে চার সপ্তাহে ৫০৮ মিলিয়নের বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে।
ইনফান্তিনো জানান, জানুয়ারিতে মূল বিক্রয় পর্বে ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আবেদন এসেছে। তিনি বলেন, “এ রকম কিছু আমরা আগে কখনও দেখিনি। অবিশ্বাস্য।” এছাড়া তিনি জানান, এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত চলবে এমন শেষ মুহূর্তের বিক্রয়ের জন্য কিছু টিকিট সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সমর্থক সংগঠনগুলো টিকিটের দামকে “অতিরিক্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছে। পুনঃবিক্রয় সাইটগুলোতে ইতিমধ্যেই রেকর্ড দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ইনফান্তিনো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত হওয়ায় দর্শকরা বিশেষ কিছু অভিজ্ঞতার অংশ হতে আগ্রহী। তিনি উল্লেখ করেন, টিকিটের দাম নির্ধারিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নামে একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে দাম ওঠানামা করতে পারে। ফিফার অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম বা অনুমোদিত সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট পুনঃবিক্রির মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি হতে পারে।
ইনফান্তিনো আশা প্রকাশ করেন, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হবে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি। তিনি জানান, এই অর্থের প্রতিটি ডলার ফিফার ২১১টি সদস্য দেশে ফুটবল উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। পর্যটন, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট খাত, নিরাপত্তা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ প্রতিক্রিয়া হবে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ইনফান্তিনোর মতে, প্রায় ৭০ লাখ দর্শকের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ২ থেকে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণ করবে এবং প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বিশ্বকাপের এই আয়োজন ক্রীড়া এবং অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ২০২৬ সালের প্রতিটি ম্যাচের টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হওয়ায় স্পোর্টস ট্যুরিজম এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।