খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ম্যাচ ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। রোববার কলম্বোর আর. প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পর এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে জাতীয় ক্রিকেট দলকে খেলার অনুমতি দেয়। এর আগে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পাকিস্তান প্রথমে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও যোগাযোগ হয়।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলার অনুরোধ জানান। একই সময়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। এরপর পাকিস্তান সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন আসে।
ম্যাচ উপলক্ষে কলম্বো সফরকালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলা নিয়ে পাকিস্তানের কিছু আপত্তি ছিল। তবে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। নাকভির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ টেলিফোনে তাকে জানান যে ম্যাচটি খেলার বিষয়ে আর কোনো বাধা নেই এবং দলকে অংশ নিতে হবে।
নাকভি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের শুভেচ্ছা তিনি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি দিসানায়েকের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, অচলাবস্থা নিরসনে তার উদ্যোগ কার্যকর ছিল।
এর আগে পাকিস্তান জানিয়েছিল, ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই তারা প্রাথমিকভাবে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পিসিবি ও বিসিবির মধ্যে লাহোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর পরিস্থিতির অগ্রগতি হয়। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হবে না—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পর পাকিস্তান তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ ধরনের ম্যাচ ঘিরে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
রোববারের ম্যাচে ভারতের কাছে ৬১ রানে পরাজয়ের ফলে পাকিস্তানের সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনা জটিল হয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে ভালো ফল না করলে পরবর্তী পর্বে ওঠা কঠিন হবে দলটির জন্য। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগ ও বোর্ডগুলোর আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, এতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সরাসরি যোগাযোগ একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।