1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মন্ত্রী লিফটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে শৃঙ্খলা প্রদর্শন করলেন ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের নিন্দা করেছে বহুজাতিক দেশসমূহ বাহরাইনে ড্রোন হামলায় অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ব্যাহত, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব বৃদ্ধি প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করায় প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শনিবার এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে কেন্দ্র সচিবদের জরুরি নির্দেশনা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০,৯৯০ ডলার নির্ধারণ ফাইনাল টিকিট ১০ হাজার ডলারের বেশি, বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ডায়নামিক প্রাইসিং শুরু শেখ হাসিনার পক্ষে চিঠি প্রাপ্তির কোনো তথ্য নেই: চিফ প্রসিকিউটর স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন, নড়াইলের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন

ভূমি রেজিস্ট্রেশন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার তাগিদ

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভূমি প্রশাসন ও ভূমি রেজিস্ট্রেশনের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।

রোববার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কার্যাবলি ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান কাঠামো, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সিনিয়র সচিব বলেন, বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা ও জনভোগান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো ভূমি প্রশাসন ও ভূমি রেজিস্ট্রেশনের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বর্তমানে ভূমি প্রশাসন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হলেও ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই কাঠামোগত বিভাজন নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করেছে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও দুরূহ করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ভূমি রেজিস্ট্রেশন মূলত ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জমির মালিকানা হস্তান্তর, দলিল সম্পাদন, নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এই একই প্রক্রিয়ার দায়িত্ব যখন ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকে, তখন তথ্যের সমন্বয় ব্যাহত হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটে এবং সেবাগ্রহীতাদের একাধিক দপ্তরে যেতে হয়। এর ফলে সময় ও অর্থের অপচয় হয় এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

সভায় জানানো হয়, ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম যদি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা যায়, তাহলে একটি একক কর্তৃত্বের আওতায় ভূমি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ, যাচাই ও হালনাগাদ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দলিল জালিয়াতি, দ্বৈত নিবন্ধন এবং কাগজপত্রের অসামঞ্জস্য কমানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ বলেন, বর্তমানে একটি জমি কেনার পর মালিকানা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। নামজারি, খতিয়ান সংশোধন ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়। ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম যদি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকে, তাহলে একই ছাতার নিচে এসব সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে এবং সেবার গতি ও মান বৃদ্ধি পাবে।

সভায় আরও বলা হয়, ভূমি সংক্রান্ত সব কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে, যা ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হবে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের কাঠামোগত সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে সভায় আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব বলেন, সরকারের সব দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণকে দ্রুত, সহজ ও কার্যকর সেবা প্রদান। কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোন দপ্তর থাকবে, তা নয়—বরং জনগণ কী পরিমাণ সুবিধা পাচ্ছে, সেটিই মুখ্য বিষয়। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাউদ্দিন নাগরী, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিববৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনগত বিষয় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026