1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মন্ত্রী লিফটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে শৃঙ্খলা প্রদর্শন করলেন ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের নিন্দা করেছে বহুজাতিক দেশসমূহ বাহরাইনে ড্রোন হামলায় অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ব্যাহত, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব বৃদ্ধি প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করায় প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শনিবার এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে কেন্দ্র সচিবদের জরুরি নির্দেশনা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০,৯৯০ ডলার নির্ধারণ ফাইনাল টিকিট ১০ হাজার ডলারের বেশি, বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ডায়নামিক প্রাইসিং শুরু শেখ হাসিনার পক্ষে চিঠি প্রাপ্তির কোনো তথ্য নেই: চিফ প্রসিকিউটর স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন, নড়াইলের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপের দ্বাদশ বৈঠক শুরু

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার দেখা হয়েছে

 

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বাদশ দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপ ১০ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১২ সালে এ উদ্যোগ শুরুর পর থেকে এটি দুই দেশের মধ্যে অন্যতম নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ প্রতিরক্ষা আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চলমান সংলাপে উভয় দেশের সামরিক প্রতিনিধিদল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করছে।

দুই দিনব্যাপী এই সংলাপে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান এবং যৌথ মহড়া আয়োজনের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ জানিয়েছে, সংলাপের উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করা এবং নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আলী হায়দার সিদ্দিকী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারাহ রুস। উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার নিয়মিত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আস্থার পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংলাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। এসব সংস্থার অংশগ্রহণ আলোচনাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে গেছে, বিশেষত সমুদ্র নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মতো বিষয়ে।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিক থেকেই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা—এসব বিষয় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। বর্তমান সংলাপেও এসব ইস্যু বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষত মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের নানা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মূলত প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা অভিযানে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়েও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে। চলমান সংলাপে এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের সামরিক সংলাপের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক চলাচলের নিরাপত্তা এবং জলদস্যুতা বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান, নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত অভিযানের প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ গত এক দশকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থান তৈরি করেছে। এই অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংলাপ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক সমর্থন সংক্রান্ত সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেয়।

দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপের মাধ্যমে সামরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিয়মিত সংলাপ দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করে এবং নিরাপত্তা পরিবেশে উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বিশেষত সন্ত্রাস দমন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ বছরের সংলাপ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন। আলোচনার ফলাফল পরবর্তী মাসগুলোতে বিভিন্ন সহযোগিতা কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026