দুরূহ এক কোণ থেকে অবিশ্বাস্য ফ্রি কিকে গোল করেন লিওনেল মেসি, তবে শেষ দিকে গোল হজম করে হেরে যায় তার দল।
ধারাভাষ্যকার বললেন, “লিওনেল মেসির জন্য সেট পিস সরু এক কোণ…।” সরু বললেও আসলে তা বোঝানো যায় না পুরোপুরি। খুবই দুরূহ এক কোণ থেকে ফ্রি কিক, কর্নারের কাছাকাছি প্রানেত। সেখান থেকে ফ্রি কিকে সাধারণত বল বক্সের ভেতরে রাখেন সবাই। মেসির শটও সেরকমই মনে হলো। কিন্তু সবার ওর দিয়ে ভাসতে ভাসতে শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য বাঁক খেয়ে বল ঢুকে গেল জলে!
ধারাভাষ্যকারদের একজন বললেন ‘ও মাইুনেস…।’ আরেকজন কিছুক্ষণ হতভম্ব থেকে এরপর বললেন, “দ্যাট ইজ পারকেশন ফ্রম দা গ্রেটেস্ট অব অলটাইম… ৩৯ বছর বয়সী মানুষটি আর কত বিস্ময় উপহার দেবেন…!” মেসিকে নিয়ে এসব কথা অবশ্য নতুন কিছু ন। ফুটবল মাঠে যা কিছু করা সম্ভব, সব করে ফেলার পরও নতুন করে বিস্মিত করার পথ তিনি ঠিকই খুঁজু নেন।
তবে এমন এক গোলের ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত তার ও দলের জন্য শেষ হলো হতাশায়। মেজর লিগ সকারের ম্যাচটিতে ওই গোলে সমতায় ফিরেছিল ইন্টার মাামি। কিন্তু ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে গোলকিপার রোকো রিওস নোভোর ভুলে গোল খেয়ে বসে তারা। কলম্বাস ক্রু ম্যাচ জিতে নেয় ২-১ গোলে।
মেসি মায়ামিতে আসার পর এই প্রথম তাদেরকে হারাতে পারল কলম্বাস ক্রু। এবারে আগে সবশেষ জয়টি ছিল সেই ২০২২ সালের ৩১ অগাস্ট।
শেষ সময়ে ওই গোলটি খাওয়ার মিনিট দুয়েকে আগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মায়ামির সান্তিয়াগো মোরালেস। গোটা ম্যাচেই ছিল ফাউল ও কার্ডের ছড়াছড়ি। দুই দল মিলিয়ে হলুদ কার্ড হয়েছ ১২টি, এর ৭টিই দেখেছে মায়ামি।
ঘরের মাঠে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে জোসেফ মার্তিনেসের পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় কলম্বাস ক্রু। যদিও ফাউলটি ছিল ২৩তম মিনিটে! কর্নারের সম মার্তিনেসকে টেনে ফেলে দেন মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট। রেফারি তখন ফাউল দেননি। খেলা চলে আরও মিনিটখানেক। এরপর ভিএআর রেফারির হস্তক্ষেপে মাঠের পাশে মনিটর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি ।
মায়ামির ফুটবলাররা তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন, আঙুল উঁচিয়ে এগিয়ে যান মেসি। প্রতিবাদ করে হলুদ কার্ড দেখেন কাজেমিরো। তবে রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পেনাল্টি কাজে লাগান মার্তিনেস।
এর মিনিট পাচেঁক পরই মেসির সেই চোখধাঁধানো ফ্রি কিকের গোল।
এরপ্র ৫৩তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ হারান মেসি। দুই মিনিট পর আনাস জারুরির গোলার মতো এক দূরপাল্লার শটে গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল কলম্বাস ক্রু। ক্রসবারে লেগে বল গোললাইন স্পর্শ করে বেরিয়ে আসে অবিশ্বাস্যভাবে।
৬৪তম মিনিটে মায়ামির দাভিদ আয়ালা বল জালে পাঠালেও গোল হয়নি অফসাইডের কারণে। ৮৮তম মিনিটে জারুরির আরেকটি শট বাধা পায় পোস্টে।
৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ৯ মিনিট। এর অষ্টম মিনিটে সেই গোল। আক্রমণে ছিল মায়ামি। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পলকে ফেলে দিয়ে বল নিয়ে নেন কলম্বাস ক্রু। সেই পাল্টা আক্রমণে ব্রাইস মেন্ডেস শট নেন বক্সের একটু বাইরে থেকে। দুর্বল সেই শট ধরতে গিয়ে গোলকিপার রিওস নোভোর হাত থেকে ফসকে যায় বল। সামনেই থাকা জামাল থিয়ারে ছুটে এসে বল পাঠান জালে।
মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ১৪ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে মায়ামি। ৬০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল। কলম্বাস ক্রু ১২ নম্বরে আছে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে।
রাড্ডাকাণ্ড: আট মাস না পেরোতেই বড় প্রশ্নের মুখে বিএনপি
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: অনুকম্পা নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এখনই
গণতন্ত্রের আম্পায়ার যখন প্রশ্নের মুখে: ভারতে নির্বাচন কমিশন বিতর্ক
জাসদ কার্যালয়ে গণআটক: মব কি এবার রাষ্ট্রসম্মত হলো?