রাজধানী ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান ও ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার রোধে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় এক কোটি টাকার অবৈধ বিদেশি পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর দুটিতে পৃথক চারটি অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য আটক করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে আকাশপথে ব্যাগেজ রুলসের অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কর ফাঁকি দিয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পণ্য আমদানির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিআইআইডি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রী প্রোফাইলিং, গ্রিন চ্যানেল ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিবিড় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে এই ধারাবাহিক সফল অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
অভিযানগুলোতে আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আধুনিক স্মার্টফোন, মোবাইলের এলসিডি ও মাদারবোর্ড, বিদেশি মদ, নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রित ওষুধ এবং স্বর্ণালংকার। জব্দকৃত এসব পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৩১ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি পৃথক ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪ ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রী এমডি মনসুর আলম ও মোহাম্মদ নওয়াজ শরিফের ব্যাগেজ তল্লাশি করে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা। একই দিনে ব্যাংকক থেকে আগত থাই এয়ারওয়েজের টিজি৩৩৯ ফ্লাইটের যাত্রী টিপু আল ইমরানের ব্যাগেজে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৩৬টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ওই একই যাত্রীর কাছ থেকে ৫৫০ পিস মোবাইল এলসিডি এবং ৯৫০ পিস মাদারবোর্ড ও ডিসপ্লে জব্দ করা হয়, যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। পাশাপাশি, একই দিন বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর গালফ এয়ারের জিএফ২৪৮ ফ্লাইটে বাহরাইন থেকে আসা এমডি আল আমিন নামের এক যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় আটক করা হয়। পরে তার ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১৮ লিটার রেড লেবেল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, গত ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আগত বাংলাদেশ বিমানের বিজি১৪৮ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কার্টন বিদেশি সিগারেট, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার আটক করা হয়। এই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এ ধরনের অবৈধ পণ্য দেশের বাজারে প্রবেশ করার কারণে একদিকে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় বৈধ ব্যবসা খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিমানবন্দরগুলোতে কাস্টমস গোয়েন্দাদের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং চোরাচালান চক্রগুলো নিরুৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আটককৃত পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস আইনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।