1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের জন্য অতীতের ভুল নীতি ও আমদানিনির্ভরতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আর্সেনাল ছেড়ে তিন বছরের চুক্তিতে বার্সেলোনায় যোগ দিলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গাব্রিয়েল জেসুস দশ বছরের রূপরেখায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সাজানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদার করার তাগিদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষা চালুর তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ও শান্তি আলোচনা নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভালে তিন টি-টোয়েন্টি কিংবদন্তির নামে স্ট্যান্ডের নামকরণ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের জন্য অতীতের ভুল নীতি ও আমদানিনির্ভরতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
অর্থনীতি প্রতিবেদক
রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য অতীতে অনুসৃত ভুল জ্বালানি নীতি, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা এবং জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে ব্যর্থতাকে প্রধানত দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান জ্বালানি খাতের অস্থিতিশীলতা ও সংকটের দায় বর্তমান সরকারের নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী ভুল সিদ্ধান্ত এবং সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার ফল।
আজ ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ : আগামী দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ছ। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কাতার থেকে প্রতি ইউনিট এলএনজি আমদানিতে প্রায় ১১ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অথচ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এবং নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হলে এই খরচের পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু অতীতের নীতিনির্ধারকেরা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে তোলেন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেননি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতের সিদ্ধান্তহীনতা বা ‘কস্ট অব ইনঅ্যাকশন’, ভুল সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক ব্যয় বা ‘কস্ট অব রং ডুইং’, দেশ থেকে অর্থ পাচার এবং বিগত সময়ে তৈরি হওয়া ঋণ ও দায়—এই চারটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পরিচালনা করা আবশ্যক। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়, থিংক ট্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থের অপব্যবহার ও ভুল নীতির প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য নিরূপণ করা না গেলে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। অতীতে স্বজনতোষী নীতি ও জাতীয় সক্ষমতা অবমূল্যায়নের মাধ্যমে যে অলিগার্কিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার শুধু অতীতের সংকট মোকাবিলা করছে না, বরং টেকসই জ্বালানি ভিত্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে চার হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ খাতের বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করে বিশেষ ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প খাতের পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত সময়ের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কারণে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি আট শতাংশের সামান্য ওপরে অবস্থান করলেও তা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে ছয় শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা বা বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই অর্থায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কেবল আর্থিক বরাদ্দ বাড়ালেই চলবে না, বরং বরাদ্দের অর্থের সঠিক ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে ১৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, জেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট এবং করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
राजस्व আহরণ ও সরকারি স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে এর সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে। সরকার নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রথম প্রান্তিকের মূল্যায়ন প্রতিবেদন আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুনসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষকবৃন্দ।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026