আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন রণাঙ্গনে রুশ বাহিনী ক্রমান্বয়ে আধিপত্য বিস্তার করছে এবং প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ছে বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা শান্তি আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে দেওয়া সবচেয়ে বিস্তৃত বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্ট এই কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে এবং পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাদের অগ্রগতির গতিধারা বর্তমানে আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। তিনি জানান, গত আগস্ট মাসেই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এ ছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর বেশ কয়েকটি বড় দলকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোর্স্ক শহরের দিকে মস্কোর সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে যুদ্ধ সমাপ্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে রাজি হননি রুশ প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া রাশিয়ায় নতুন করে সামরিক সৈন্য সমাবেশের গুঞ্জনকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
দীর্ঘ সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের ফলে রুশ অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং জনগণের মধ্যে ক্লান্তি বাড়ার কথা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও জনমত জরিপে উঠে এলেও পুতিন তার যুদ্ধংদেহী অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এর আগে কিরগিজস্তানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকেও ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মস্কোর নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমান কিয়েভ প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের দর-কষাকশিতে যাওয়ার সুযোগ নেই, তবে সংঘাতের মূল কারণগুলোর সুরাহা হলে এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে মস্কো সুনির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সংলাপে প্রস্তুত রয়েছে।
ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার বিষয়টিও স্বীকার করেন। তিনি জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো দেশের তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানলেও এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বেশিরভাগ স্থাপনার মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে পুতিন কিয়েভের যেকোনো পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে নিকট ভবিষ্যতে ইউক্রেন যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই; বরং মস্কো সামরিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনেই বেশি মনোযোগী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও শান্তির আহ্বান অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকেই ইঙ্গিত করছে।