জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আগামী দশ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত সময়ে মোট চারটি লিখিত প্রশ্ন এবং ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যতের রূপরেখা দ্রুতই জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করবেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। সরকারের এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাতটির আধুনিকায়ন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন সংক্রান্ত অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুলবাড়ী কয়লা খনির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এই খনির কয়লা দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারে। তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খনি এলাকায় বসবাসরত মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের জীবিকা সুরক্ষাকে সরকার প্রধানতম গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি ও কৃষিজমির মালিকরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং প্রকল্প থেকে লাভবান হতে পারেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। পরিবেশগত সুরক্ষাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।