বাংলাদেশ ডেস্ক
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, ভুল নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ শুধু গ্যাস দিয়ে উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। অথচ দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আমদানিকৃত এলএনজির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত ২১ জুলাই দুটি এফএসআরইউয়ের একটি ত্রুটিগ্রস্ত হওয়ায় ২১ থেকে ২২ দিন মেরামতে সময় লাগে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।
ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট হওয়ায় এগুলো একটানা চালানো যায় না। বকেয়া পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বকেয়া পরিশোধ সাপেক্ষে এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, রাত ৮টার মধ্যে বিপণি বিতান ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া মধ্যমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট ও কাস্টমস ডিউটিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দেড় যুগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভুল নীতি এবং অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের কারণে বর্তমান এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় যথোপযুক্ত বিনিয়োগ করা হয়নি।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের চিত্র তুলে ধরে সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।