আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন এক মোড় নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ—জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গত মঙ্গলবার রাতে এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে বলে আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতির মাধ্যমে জানা গেছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি কারিগরি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন মার্কিন কর্মী হতাহত হন। এছাড়া জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার দাবি করেছে তারা। তবে জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। জর্ডানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয় এবং বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরে পতিত হওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
একই সঙ্গে উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন রাডার ও সেনা মোতায়েন লক্ষ্য করে সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। অন্যদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেশের আকাশসীমায় শত্রু ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বিস্ফোরণের যেসব শব্দ শোনা গেছে, তা মূলত ড্রোন ভূপাতিত করার ডিফেন্স সিস্টেমের কার্যক্রমের ফল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে এই পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন স্বার্থ বা স্থাপনায় কোনো ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ও শক্তিশালী সামরিক জবাব দেওয়া হবে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।