আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দেশীয়ভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিরক্ষা খাতের রফতানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স—পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজিসক (পিওএফ) ওয়াহ কারখানায় আরও দুটি নতুন শিল্প ইউনিট চালু হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই দুটি নতুন উৎপাদন প্ল্যান্টে কার্যক্রম শুরু হবে বলে দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ওয়াহ শহরে অবস্থিত পিওএফ কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গেলে তাকে এই তথ্য জানানো হয়। এই সফরকালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা, রফতানি সম্ভাবনা এবং প্রতিরক্ষা খাতে এর অবদানের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দেশের প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও আমদানি নির্ভরতা হ্রাসের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
নতুন কারখানাগুলো চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিধি আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই প্ল্যান্টগুলোতে সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ বা সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হবে কিংবা এর উৎপাদন ক্ষমতা কত—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। ওয়াহর এই সামরিক কমপ্লেক্স দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সমরাস্ত্র তৈরি করে আসছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে পাকিস্তানের উৎপাদিত সমরাস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামাবাদ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান প্রচলিত গোলাবারুদ থেকে শুরু করে ড্রোন, প্রশিক্ষণ বিমান ও যুদ্ধবিমান রপ্তানির পরিসর বাড়ানোর জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ও সমরাস্ত্র বিক্রির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সামরিক সরঞ্জাম রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে একটি লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক খাতে রূপান্তর করার কৌশল নিয়েছে দেশটির সরকার।
পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধানকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও করপোরেট সংস্কৃতির রূপান্তর সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা কারখানা ও বেসরকারি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনতে এবং খাতের নজরদারিতে চলতি বছর ‘পাকিস্তান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি’ (ডিপ্রা) নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক উৎপাদন খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরালো করা।
সফরকালে আসিম মুনির দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষামূলক ট্রায়ালও প্রত্যক্ষ করেন। সামরিক নেতৃত্ব মনে করছে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারের প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।