রাজধানী ডেস্ক
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রতীকবিহীন এই নির্বাচনে প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেদের জনপ্রিয়তা, সততা, যোগ্যতা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক প্রথা বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শনিবার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকে পুরোপুরি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকেও অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কোন্দল ও বিভাজন বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রতীকবিহীন নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে প্রার্থীরা দলের লেজুড়বৃত্তির বাইরে এসে সরাসরি জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আসবেন এবং স্থানীয় সরকারের কার্যকারিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সালথা ও নগরকান্দা এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, ওই অঞ্চলে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কোনো পক্ষ যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো স্থানীয় বিরোধ বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো ধরনের বিরোধ বা অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ এবং নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরিফ। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সহসভাপতি আলিমুজ্জামান সেলু, মাহবুব আলী মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আছাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান তারা মোল্লা, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি তৈয়াবুর রহমান এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হেলালসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সভায় অংশ নেন।
সভায় নগরকান্দা উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা হয়। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস এবং কিশোর অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে সমন্বিত ও জোরালো ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।