খেলাধুলা ডেস্ক
খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি শিক্ষাজীবনকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও বিসিবি কর্মকর্তা শাহরিয়ার নাফীস এবং এইচ এম আতিফ ওয়াফিক যৌথভাবে রচনা করেছেন ‘প্লে অ্যান্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস’ শীর্ষক একটি বই। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রায় চার বছর ধরে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের পর রচিত এই বইটিতে দেশের ও বিদেশের সফল এবং সংগ্রামশীল ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব জীবনের গল্প স্থান পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে নিজের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে শাহরিয়ার নাফীস জানান, পরিবার থেকে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার ওপর সবসময় কঠোর কড়াকড়ি ও চাপ ছিল। এমনকি জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পরও পরিবারের তরফ থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করতেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় খেলাধুলা এখনো এককভাবে একটি স্বাবলম্বী ও পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে বিকশিত হয়নি। ফলে শুধু খেলার ওপর নির্ভর না করে তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার মাধ্যমে বিকল্প পেশাগত পথ বা ব্যাকআপ প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বইটিতে মোট ৩৫ জন অ্যাথলেটের জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই একসময়ের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও নানা কারণে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। তবে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পড়াশোনা তাদের জীবনে পরবর্তী সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থান ও সফল ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। বইটির বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ করার জন্য দুই লেখক দেশ ও বিদেশের সফল ক্রীড়াবিদ, কোচ এবং শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রখ্যাত পেসার অ্যালান ডোনাল্ড এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সফল কোচ স্টুয়ার্ট ল-এর মতো ব্যক্তিত্বদের মতামত ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বের সঙ্গে সংযোজিত হয়েছে।
লেখকদ্বয়ের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অর্থ কেবল বড় কোনো ডিগ্রি অর্জন বা উচ্চশিক্ষার সনদ লাভ করা নয়। বরং নিয়মিত অধ্যয়ন মানুষের মানসিক পরিপক্বতা বৃদ্ধি করে, সংকটকালে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাঠের খেলায় পারফরম্যান্সের মান উন্নত করতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পড়াশোনা ও খেলাধুলা—উভয় ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের স্বার্থে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করে দেন। একই সঙ্গে তরুণ অ্যাথলেটদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেওয়া হয় যে, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শিক্ষাকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে বাস্তব জীবনে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, পড়াশোনা এবং খেলাধুলার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং দুটি ক্ষেত্র একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। শৈশব থেকেই বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঠিক নির্দেশনায় উভয় বিষয়ের মধ্যে সঠিক সমন্বয় সাধন করা গেলে তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, অন্যদিকে তেমনি দেশের একজন সচেতন ও শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সক্ষম হয়।