রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর আবদুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় বহনের ভাইরাল হওয়া ভিডিওর রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র এবং পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ওই তরুণী জীবিত রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। পারিবারিক কলহের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ওই রাতে এমন ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া তিনটার দিকে। আবদুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীমুখী একটি চলন্ত মোটরসাইকেলে তিনজনকে আরোহী হিসেবে দেখা যায়। মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা অন্য এক যুবক মাঝখানে থাকা এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা অস্বাভাবিকভাবে ঝুলছিল। ওমরাহ পালন শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি ওই দৃশ্য দেখে সন্দেহজনক মনে করে আবদুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটির পিছু নেন এবং বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার তরুণী নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানান যে তিনি সুস্থ আছেন এবং বেঁচে রয়েছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে তরুণীর বড় বোন ও তার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে অভিমান করে তরুণী বাসা থেকে বের হয়ে যান। বড় বোনের স্বামীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাইরে গিয়ে তিনি এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় আলম নামের এক যুবক ও তার এক বন্ধু তরুণীকে মোটরসাইকেলে করে প্রথমে টঙ্গী নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তারা টঙ্গীতে না গিয়ে মিরপুরে তরুণীর এক বান্ধবীর বাসায় তাকে পৌঁছে দেন এবং পরে তার পরিবারকে বিষয়টি মুঠোফোনে অবহিত করেন।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্র ধরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালানো হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের ঠিকানা কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর এলাকায়। তবে যে দুজন যুবক তরুণীকে বহন করছিলেন, তাদের মধ্যে চালকের বাড়ি রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এবং তার নামের অংশে আলম রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া তরুণীর ব্যক্তিগত জীবন ও এর আগের দুটি বিবাহ সম্পর্কিত নানা তথ্য সামনে আসলেও সেগুলোর বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
এই ঘটনার পর জননিরাপত্তা এবং রাতের সড়কে এ ধরনের সন্দেহজনক চলাচল নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।