ক্রীড়া প্রতিবেদক
গেল দুই আসরের বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান এবং সার্বিক অনিয়ম বিবেচনা করে চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তড়িঘড়ি করে আরেকটি অনিয়মিত বা অগোছালো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিবর্তে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো সম্পূর্ণ নতুন করে সাজিয়ে আসরটি ভবিষ্যতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান বোর্ড।
বিসিবি সূত্রে জানা যায়, গত দুই আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি এবং নানা অনিয়মের কারণে বোর্ডের প্রায় ৪০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়া হলেও বিগত বছরগুলোতে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বোর্ডের আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং টুর্নামেন্টের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাড়াহুড়ো করে কোনো দুর্বল টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে সবকিছু নিখুঁতভাবে গুছিয়ে তবেই বিপিএলের পরবর্তী আসর দেওয়া হবে।
এদিকে বিপিএল স্থগিত হওয়ার ঘোষণায় বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত সংকটের মুখে পড়েছেন দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের সীমিত সংখ্যক খেলোয়াড় ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল সিংহভাগ ক্রিকেটার এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ (ডিপিএল) অন্যান্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় পারিশ্রমিক হ্রাস পাওয়া এবং নিয়মিত পেমেন্ট না পাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলোর কারণে ক্রিকেটারদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এই সংকট নিরসনে ও নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে আজ রবিবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিনিধিরা। বোর্ড প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের আগে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলাদা একটি প্রস্তুতি সভাও করবেন। সেখানে কেবল বিপিএল নয়, বরং সামগ্রিক ঘরোয়া ক্রিকেটের আর্থিক নিরাপত্তা, সঠিক সময়ে পারিশ্রমিক পরিশোধ এবং টুর্নামেন্ট না থাকাকালীন বিকল্প উপায়ে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।