খেলাধূলা ডেস্ক
ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্ট চলাকালীন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার নিয়ে সাময়িক কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এসব ঘটনা বা কোনো ধরনের অনিশ্চয়তার বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ। তিনি সম্পূর্ণভাবে মাঠের খেলায় মনোনিবেশ করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন।
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান খান ও কাসিম খানের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। সাক্ষাৎকারটিতে তারা তাদের কারাবন্দি বাবার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। জানা যায়, এই সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হলে লর্ডস টেস্ট এবং তিন ম্যাচের সিরিজের বাকি অংশ বয়কট করার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন বার্তা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামে পাকিস্তান দল এবং খেলা স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে পাকিস্তান কোচ সরফরাজ আহমেদ বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি কেবল ম্যাচ ও কৌশলগত দিক নিয়ে ভাবছেন। প্রথম দিনের বিকেলের সেশন শুরু হওয়ার আগে দল বা খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা বা ম্যাচ বয়কটের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সরফরাজ জানান, দলের খেলোয়াড় ও সবাই স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে যথারীতি মাঠে নেমেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের এই ঘটনাটি ক্রিকেট ময়দানে প্রভাব ফেলার পেছনের প্রেক্ষাপটে রয়েছে পাকিস্তানের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দীর্ঘ কারাবাস। গত তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন অভিযোগে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন, যদিও তার আইনি দল ও সমর্থকেরা এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন।
এদিকে, পিসিবি চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে ঘিরে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়েছিলেন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সুলেমান ও কাসিম খানের করা মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। তবে মাঠপর্যায়ে খেলোয়াড়দের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি এবং পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই সিরিজ পরিচালিত হচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের বাইরের রাজনৈতিক ও পারিবারিক এসব সমীকরণ আন্তর্জাতিক সিরিজের উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত পেশাদারিত্বের জয় হয়েছে এবং নির্ধারিত খেলাগুলো মাঠে গড়াচ্ছে।