বিনোদন ডেস্ক
২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পোড়ামন ২’ সিনেমার দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন। নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবালের পরিচালনায় নতুন চলচ্চিত্র ‘গুলশানের চামেলি’-তে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ অভিনেতা। রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্তরালের বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে এই সিনেমাটি।
চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে এক জাঁকজমকপূর্ণ মহরত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে চলেছে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন করছেন চিত্রনায়ক আমিন খান। তারকাবহুল এই সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন চলচ্চিত্রের প্রবীণ ও জনপ্রিয় মুখ রোজিনা, ওমর সানী এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সিনেমায় বাপ্পারাজের চরিত্রটি ঠিক কেমন হবে এবং তার পর্দার উপস্থিতি কতটা দীর্ঘ হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে নারাজ নির্মাতা পক্ষ। তবে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, চলচ্চিত্রের মূল চিত্রনাট্য এবং চরিত্রের গভীরতার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই বাপ্পারাজকে এই বিশেষ ভূমিকার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। তার অন্তর্ভুক্তি সিনেমাটির অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় বাড়তি ওজন যোগ করবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার চিত্রনাট্য রচনা করেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। অ্যাক্সেল ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন জাহাঙ্গীর শিকদার। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্রের প্রি-প্রোডাকশনের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ বা শুটিং শুরু হবে। পরবর্তীতে নির্মাণকাজ শেষ করে আগামী বছরের যেকোনো একটি উৎসব বা ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আজহায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত রোমান্টিক ও ট্র্যাজেডি ঘরানার অভিনয়ে বাপ্পারাজ দর্শকের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় রূপালী পর্দা থেকে দূরে থাকার পর তার এই প্রত্যাবর্তন ঢাকাই চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে ইতিবাচক কৌতূহল তৈরি করেছে। সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অভিজাত শ্রেণির বাস্তব চিত্র সেলুলয়েডের ফিতায় ফুটিয়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি নির্মাতা দিয়েছেন, তাতে সিনেমাটি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।