বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার কাজ নির্ধারিত সময়সীমায় এগিয়ে চলেছে। চলতি বছরের অক্টোবরে এই বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বিদেশি বিমান পরিবহন সংস্থা কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের মতে, এই বিমানবন্দরটি চালু হলে দেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজতর ও সাশ্রয়ী হবে। পর্যটন রাজধানী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং হোটেল-মোটেল ও আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশের প্রধান বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী মাসেই এ বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ক্রমবর্ধমান আকাশপথের যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে এবং দেশের এভিয়েশন খাতের সেবার মান বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে এই টার্মিনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকারের এই দুই মেগা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি প্রতিযোগিতাসক্ষম হয়ে উঠবে।