রাজনীতি ডেস্ক
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একপাক্ষিক নিয়োগের অভিযোগ তুলে বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রমে নানা ব্যর্থতা ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশের শিক্ষা ও প্রশাসনিক খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন খাতের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকজনকে পদায়ন করা হচ্ছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে ১৯ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় মতাদর্শের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৬৩টি জেলা পরিষদে প্রশাসক পদে দলীয় ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপের দাবি, এসব পদায়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে পরাজিত ও মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দেয় এবং রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন, সেচ কার্যক্রম ও সার উৎপাদনসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে। বর্তমানে গ্যাসের চাহিদার বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গৃহস্থালির চুলা জ্বলছে না এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল বা অন্যত্র চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরকার দুই বছরের জন্য বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই মাসের মধ্যেই তা বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া লোডশেডিংয়ের তীব্রতা, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল এবং ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত জাতীয় কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে বর্তমান প্রশাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, কৃষকরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না এবং বেশি মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি ও ঋণ প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। স্বাস্থ্যখাতেও সংকট কাটেনি এবং বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল গঠনে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শিক্ষাঙ্গনগুলোতে দখলদারিত্ব এবং ভিন্ন মতাদর্শের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত ছয় মাসে দেশে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া সরকার গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক।