অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং আটকে থাকা ল্যান্ড বর্ডার ও বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অর্জিত এই বৈঠকে উভয় দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাৎ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীনকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বা জয়েন্ট ভেঞ্চার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতের যথাযথ বিকাশ উভয় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যের বর্তমান গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করা হয়। চীন বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে প্রথম অবস্থানে থাকলেও, দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার স্থল সীমান্ত বা ল্যান্ড বর্ডার এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বর্ডার হাটগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়টি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে রয়েছে। এগুলো পুনরায় চালু হলে সীমান্ত অঞ্চলের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য হ্রাস পাবে এবং বৈধ পন্থায় পণ্যের আদান-প্রদান বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে।
এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সার্বভৌম সমতার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এবং ভারত উভয়ই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সম্পর্কের ক্ষেত্রে কে বড় বা কে ছোট, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্বকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এই মনোভাবকে ধারণ করে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে ল্যান্ড বর্ডার ও বর্ডার হাটগুলো সচল না থাকায় সীমান্ত বাণিজ্যের একটি বড় অংশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু হলে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে যৌথ বিনিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এই আলোচনা বাস্তবায়িত হলে তা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাসহ (সার্ক) আঞ্চলিক বাণিজ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।