বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে বর্তমানে ঢাকা ও নয়াদিল্লি যৌথভাবে কাজ করছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার মাধ্যমে এই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. হুমায়ুন কবির।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং আঞ্চলিক কূটনীতির নানা সমীকরণ তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করে বৈদেশিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক সমতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়সংগত প্রাপ্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দেওয়া বক্তব্যকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে ঢাকা। এই ইতিবাচক মনোভাবের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পারস্পরিক আলোচনার পরিধি আরও প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত বহুমাত্রিক। নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুগুলোতে দুই দেশের ধারাবাহিক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে শীর্ষ বৈঠকের আগে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়, যা দ্বিপক্ষীয় সংলাপকে অর্থবহ করে তুলতে সহায়তা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিবেশীর এই কূটনৈতিক তৎপরতা পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
পাশাপাশি, দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি নতুন উৎস নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাহিদার জোগান দিতে এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে দেশের বৈদেশিক নীতির মূল অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে এবং পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।