রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ৫৫ হাজার বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় ‘এক লক্ষ্যে এক লাখ’ শীর্ষক একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। ক্লেমন-এর পরিবেশবান্ধব প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রিন ওয়েভ’-এর আয়োজনে এই কর্মসূচির আওতায় একদিনে সারাদেশে এক লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ স্লোগানকে সামনে রেখে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ব্যাপক হারে সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের মানোন্নয়নই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, ঢাকা একটি জনবহুল ও ব্যস্ত শহর, যেখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করলেও যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা শহরকে অপরিচ্ছন্ন করে তুলছে। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রতিটি স্তরের নাগরিকের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঢাকা শহরে দ্রুত নগরায়ণের ফলে গাছপালার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি পেলে তা নগরীর বায়ুদূষণ রোধ এবং পরিবেশের গুণগত মান পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, শহরজুড়ে বৃক্ষরোপণের এই কার্যক্রম শুধু রাস্তার পাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নগরীর উন্মুক্ত স্থান ও বিভিন্ন পার্কের ভেতরেও গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থানীয় কমিউনিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহায়তা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে সিটি কর্পোরেশন। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগটি টেকসই করার লক্ষ্যে রোপণকৃত গাছের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।