রাজধানী ডেস্ক
রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত বুধবার এক দিনে ১ হাজার ৭৩২টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই সঙ্গে নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন যানের বিরুদ্ধে ডাম্পিং ও রেকারিংয়ের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত দিনব্যাপী এই অভিযানে রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, উত্তরা ও গুলশান—এই আটটি ট্রাফিক জোনে বিভক্ত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন পুলিশ সদস্যরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মিরপুর ও মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগে।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৬৯টি মামলা হয়েছে। এই বিভাগে ১৯টি বাস, ৩১টি ট্রাক, ৪৬টি কাভার্ডভ্যান, ২৯টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ১৪৪টি মোটরসাইকেল রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২২টি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে। এই জোনে ২৫টি বাস, ১টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ৬৮টি সিএনজি এবং ১৫৩টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। এছাড়া ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৫২টি, ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ১৯৯টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৫৬টি, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৫৫টি, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৪৪টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৩৫টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
শুধু আর্থিক জরিমানা বা মামলা দিয়েই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; ট্রাফিক আইন অমান্য করে যত্রতত্র পার্কিং ও চলাচলের কারণে অভিযানকালে মোট ৫৪৩টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৫টি গাড়ি রেকার করা হয়। এসব যানের মধ্যে বিভিন্ন ভারী ও হালকা যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজধানীর সড়কে যানজট নিরসন এবং বিশৃঙ্খলা রোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালনা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এই ধরনের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।