রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় স্বার্থের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. হুমুবয়ন কবির। শনিবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে বর্তমান সরকার আন্তরিক হলেও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
ভারত সফরের সময় ও প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক থাকা জরুরি। তবে এই সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রস্তুতি ও পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার মাধ্যমে যখনই জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে, তখনই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় পলাতক ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত আসামিদের ফিরিয়ে আনার দাবি দেশের সাধারণ মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রত্যাশা। এই জনতা ও জাতীয় অনুভূতির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বিগত ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতা বা সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে—ভারতের নীতিনির্ধারকরাও বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। এ ধরনের বিষয়গুলোকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সূচনাবিন্দু হিসেবে ধরে নিয়ে উভয় দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে অবশিষ্ট অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের পথ খোঁজা হবে। সরকার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায়।