রাজনীতি ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে নিজ বাসভবনে উঠছেন রাষ্ট্রের প্রধান। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আজ রবিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রম প্রধানের সরকারি বাসভবনে ওঠার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়। বঙ্গভবনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি প্রধান রাজনৈতিক দলের অন্যতম শীর্ষ নেতার দায়িত্বে ছিলেন। তবে রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলীয় সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদমর্যাদা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ওঠার এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রে নতুন প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কার্যক্রমের একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান এবং রাষ্ট্রের সব কার্যনির্বাহী ক্ষমতা তার নামে পরিচালিত হয়। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দেশের আইনি শাসন রক্ষা, সংবিধানের সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় পরিচয় থেকে সরে এসে সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণ করায় রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে। আগামী দিনগুলোতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটির গরিমা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ওঠার পর তিনি তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম ও সাংবিধানিক দায়িত্ব আরও সুচারুভাবে পরিচালনা করবেন।