বাংলাদেশ ডেস্ক
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শনিবার দুপুরে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যান সরকারের নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। এ সময় ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এবং নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হুমায়ুন কবির এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পর কোটি মানুষের ভোটাধিকারের মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রের বর্তমান বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের হারানো ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। ছয় মাস পূর্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত করার প্রক্রিয়াটিকে তিনি একটি নিয়মিত ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ বলে উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে সঠিক নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। একাত্তরের কালজয়ী অধ্যায়ে সব সংশয় ও বিভ্রান্তি কাটিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে এই সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বারবার বাধাগ্রস্ত হলেও জনগণের রাজনৈতিক দল হিসেবে তা পুনরুদ্ধারে সবসময় সচেষ্ট ছিল।
তিনি আরও স্মরণ করেন আশির দশকের রাজনৈতিক সংঘাতের সময় বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকার কথা। ১৯৮১ সালের পর দেশের ক্রান্তিলগ্নে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বর্তমান নেতৃত্বে দেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই স্মৃতিসৌধ পরিভ্রমণ এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রশাসনের আদর্শিক ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার একটি স্পষ্ট বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছেছে। বর্তমান প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের পদক্ষেপ জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে সাহায্য করবে।