বাংলাদেশ ডেস্ক
জনগণের কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।
বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মূল ভিত্তি ছিল মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বাকস্বাধীনতা পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমনপীড়ন পেরিয়ে জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখতে চায় যেখানে সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকবে। রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণ ছাড়া বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয় বলে বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়।
আলোচনায় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপরেখা তুলে ধরে বলা হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ ও মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। তবে সেই পার্থক্য যেন জাতীয় স্বার্থ এবং জনকল্যাণের প্রশ্নে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সরকারের গঠনমূলক ও যৌক্তিক সমালোচনা করার অধিকার সবারই রয়েছে, তবে তা যেন কোনোভাবেই ব্যক্তি চরিত্রের ওপর আক্রমণ বা চরিত্রহননের পর্যায়ে না পৌঁছায়। রাজনীতির পরিসরে সুস্থ ও শালীন সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, কার্যকর গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য। সবকিছুতেই অন্ধ বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে সহনশীল ও গঠনমূলক অবস্থান নিতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত জনসচেতনতা ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট দূর করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও দূরদর্শী ও সহনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশ গঠনে নাগরিকদের প্রত্যাশা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সব রাজনৈতিক শক্তিকে এক মঞ্চে কাজ করার বিকল্প নেই।