সারাদেশ ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং অন্যজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার রাতে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট বা সংশ্লিষ্ট এলাকার হোটেল শিখা ইনে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মোট নয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে নিহত আলিমুজ্জামান সাজুর (৪৫) মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়। ঘোজাডাঙ্গা ইমিগ্রেশন ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কফিনবন্দী মরদেহটি বাংলাদেশের ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করে। এ সময় ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কোম্পানি কমান্ডারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহটি নিহতের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি কালিগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকেল ৫টায় আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নিহত আলিমুজ্জামান সাজু কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।
অন্যদিকে, একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত অপর বাংলাদেশি নাগরিক রেবুতি রানী সরকারের শেষকৃত্য ভারতে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম তারালী গ্রামের ভাবেশ কুমার সরকারের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। পরিবারের সম্মতিতে ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে কলকাতার নিমতলা শ্মশান ঘাটে তার অন্ত্যিসক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত বুধবার রাতে কলকাতার হোটেল শিখা ইনে সংঘটিত ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট নয়জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার নাগরিক। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আহত বা দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আকস্মিক এই প্রাণহানির ঘটনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নিহতদের পরিবার ও নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিদেশে গিয়ে এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় বৈদেশিক ভ্রমণ ও হোটেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যালয়গুলো হতাহতদের পরিবারকে সহায়তায় এবং আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।