রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে মোট ৪৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানগুলোর সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
শনিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাঁড়াশি তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযানের স্থানভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অপরাধ দমনে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগের জোরালো ভূমিকার ফলে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ১১৯ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা বিভাগে ৫৯ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৭ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জন, রমনা বিভাগে ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৪ জন, গুলশান বিভাগে ৩৯ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অবৈধ ও চোরাই সামগ্রী জব্দ করেছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি স্বর্ণের লকেট, ১৬ হাজার টাকার জাল নোট, ৯টি মোবাইল ফোন, তিনটি ল্যাপটপ, দুটি সিপিইউ, দুটি ট্যাব, ৫৫টি সিমকার্ড এবং নগদ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা। এসব আলামত অবৈধ লেনদেন, প্রতারণা কিংবা চোরাই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযאן জোরদার করার ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৩ হাজার ৯১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯১৩ গ্রাম হেরোইন এবং ৩২ কেজি গাঁজা। রাজধানীজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে ডিএমপির মাদকবিরোধী এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের বহুমুখী প্রবণতা রোধে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ধারাবাহিক ও বিস্তৃত অভিযান অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাং বা বিভিন্ন অপরাধ চক্রের তৎপরতা দমনে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
ডিএমপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহানগরীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান সুরক্ষিত রাখতে পুলিশের এ ধরনের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং জব্দকৃত আলামত ও মাদকের উৎস সম্পর্কে অধিকতর তদন্ত চলছে।