ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দুর্গে বড় আঘাত হানেন শরীফুল। তার অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ দল।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে অজি পেসার মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে পুরো দল মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়। স্কোরবোর্ডে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখে বাংলাদেশ দলের বোলাররা। ইনিংসের সূচনা করতে এসে তাসকিন আহমেদের বলে ১০ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন প্রায় সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট দলে ফেরা ম্যাট রেনশ। এরপর দলের রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট করে প্রাথমিক সফলতা আনেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। এই দুই ব্যাটার মিলে ১০৮ বলে ৭৬ রানের একটি স্থিতিশীল জুটি গড়ে দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার চেষ্টা চালান। তবে এই জুটি ভাঙার পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ত্রাস সৃষ্টি করেন শরীফুল ইসলাম। একই ওভারে ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে স্বাগতিক শিবিরে বড় ধাক্কা দেন এই বাঁহাতি পেসার। এরপর অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে আউট করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৭৪ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন স্মিথ।
স্মিথের বিদায়ের পর ক্রিজে আসা বো ওয়েবস্টারকেও এলবিডব্লিউ করেন শরীফুল। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট বা ফাইফারের কৃতিত্ব অর্জন করেন তরুণ এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশি কোনো বোলারের এমন সাফল্য দলের বোলিং শক্তির বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শরীফুলের বোলিং তোপের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করে তার আক্রমণকে দারুণভাবে সহায়তা করেছেন।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানের স্বল্প সংগ্রহ নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামলেও বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার লিড এখনো এক শ রানের নিচে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রথম ইনিংসে বড় রানের ঘাটতিতে পড়লেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অনুকূলে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে টাইগারদের সামনে। লাল বলের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের বোলারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খেলা গড়ায় সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের কৌশলগত পরিবর্তন এবং উইকেটের আচরণ ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।