অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির জেরে আবারও মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই মূল্যতালিকা কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর বহাল থাকবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম সমন্বয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট সকালে সর্বশেষ সোনার দাম পরিবর্তন করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় বুলিয়ন বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রেডের সোনার দামেও সমপরিমাণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের বাজারে এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৫ হাজার ০৩ টাকায় বিক্রি হবে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অলংকার কেনার প্রবণতা কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম উচ্চপর্যায়ে অবস্থান করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সোনার তৈরি গহনা কেনা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক bullion market বা আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার আউন্সপ্রতি দামের অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে দেশের বাজারে এই প্রভাব পড়ছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার সরবরাহের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই দাম নির্ধারিত হয়। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বাজুস নিয়মিতভাবে বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তবে সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, দফায় দফায় সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণশিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগর ও ছোট ব্যবসায়ীরাও মন্দার মুখে পড়ছেন, যা সামগ্রিক ব্যবসা বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।