খেলাধূলা ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক পেসার মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে টিকতে না পেরে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের। ম্যাকাইয়ে টেস্ট ভেন্যুর অভিষেক ম্যাচে প্রথম দিনেই স্টার্কের গতি ও সুইংয়ের মুখে মাত্র ২১ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ান পেস আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মিচেল স্টার্কের ফুল লেংথ বল খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। পরের ওভারে আক্রমণে এসে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান স্টার্ক। দলীয় ইনিংসের প্রথম তিন ব্যাটারই কোনো রান না করে ‘ডাক’ মারেন।
ধারাবাহিক পতনের মধ্যে পঞ্চম ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বা মোমিনুল হক ৯ রান করে আউট হন। এরপর ইনিংসের সপ্তম ওভারে লিটন দাসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে টেস্ট ক্যারিয়ারের আরেকটি ফাইফারের দেখা পান স্টার্ক। শুরুর এই ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। মুশফিকুর রহিম ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৪২ বল মোকাবিলা করে ৫ রান করলেও প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
লাঞ্চ বিরতির পর মাঠে নেমে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত ১১ রানে প্যাট কামিন্সের বলে থার্ড স্লিপে বিউ ওয়েবস্টারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আউটের পরই দ্রুত ধসে পড়ে বাংলাদেশের বাকি ব্যাটিং লাইনআপ। হাসান মাহমুদ ১০ রান এবং তাসকিন আহমেদ ১ রান করে আউট হলে দলের সর্বনিম্ন স্কোর গড়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম প্রতিরোধ গড়ে ব্যবধান কিছুটা বাড়ান। এই জুটিতে আসে দলের সর্বোচ্চ ২৫ রান। শরীফুল ইসলাম দলীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান করে আউট হলে ৬৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। অপরপ্রান্তে মিরাজের সমান ১১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তাইজুল ইসলাম। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মাত্র ২২ বল খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করে রেকর্ড গড়েন মিচেল স্টার্ক। বলের হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে এটি পঞ্চম দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড। এর আগে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বল খেলে ৫ উইকেট নেওয়ার দ্রুততম রেকর্ডটিও স্টার্কেরই দখলে ছিল। বাকি উইকেটগুলোর মধ্যে প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড বাংলাদেশ ইনিংসে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। ডারউইন টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ম্যাকাইয়ে খেলতে নামলেও এই ইনিংসটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম হতাশাজনক সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।