অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ ও সুনির্দিষ্ট করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে দেশে কাজের বৈধ অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট হালনাগাদ থাকা সাপেক্ষে ‘এ-৩’সহ অন্যান্য এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা সহজেই বাণিজ্যিক ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে বাংলাদেশে ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। প্রচলিত নিয়মে ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) থেকে কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয় এবং তা নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নবায়ন করতে হয়। ওই ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত অনুযায়ী তাদের যাবতীয় বেতন ও ভাতা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই পরিশোধ ও উত্তোলন বাধ্যতামূলক।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু ‘এ-৩’সহ অন্যান্য এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরির বিদেশি কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হয়, সেহেতু তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া জটিলতামুক্ত রাখা জরুরি। নতুন নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট হালনাগাদ থাকা সাপেক্ষে এবং গ্রাহক পরিচিতি সম্পর্কিত ‘কেওয়াইসি’ (নো ইওর কাস্টমার) নীতিমালা যথাযথভাবে পরিপালন করে ব্যাংকগুলো অবিলম্বে হিসাব খোলার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বহুজাতিক কোম্পানি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের আর্থিক লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে। অতীতে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে যে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হতো, নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে তা দূর হবে। এর ফলে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে বেতন-ভাতা স্থানান্তর নিশ্চিত হবে এবং দেশের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।