রাজনীতি ডেস্ক
সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের একই দিনে প্রয়াণে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পারিবারিক সূত্র ও দলীয় সূত্রে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে ৯৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করা প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠিত হলে তিনি প্রথমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরবর্তী সময়ে তাঁর লিভার ও কিডনিজনিত জটিলতা বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আইন পেশায় অনন্য অবদানের পাশাপাশি ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সুশাসন, মানবাধিকার ও আইনি সংস্কারের মতো বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে আইনজীবী সমাজ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, উভয়ের শেষকৃত্য ও দাফনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। সাবেক এই দুই গুণী ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে রাজনৈতিক সহকর্মী, আইনজ্ঞ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।