1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যম অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি স্বাধীন: তথ্যমন্ত্রী ভূমিসেবার মানোন্নয়ন ও হয়রানি বন্ধে ডিসিদের ১৪ দফা নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিআরটিসির মহিলা বাসে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু প্রকাশ্যে এক নারীকে জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মা হারালেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, তীব্র যানজট শুটিংয়ের সময় হাঁটুতে গুরুতর চোটে হাসপাতালে জনপ্রিয় অভিনেতা, হতে পারে অস্ত্রোপচার আওয়ামী লীগের জন্য একদিনেই এলো দুই বড় দুঃসংবাদ সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের কারাদণ্ড বৃদ্ধি

ভূমিসেবার মানোন্নয়ন ও হয়রানি বন্ধে ডিসিদের ১৪ দফা নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক
মাঠ পর্যায়ের ভূমিসেবার মানোন্নয়ন, সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের হয়রানি নিরসন এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সুনির্দিষ্ট ১৪টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাপত্র দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক হলেন জেলার সামগ্রিক ভূমি প্রশাসনের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়ক। ফলে মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোতে নাগরিক ভোগান্তি লাঘব, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রদত্ত নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি, সময়ানুবর্তিতা এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সেবাগ্রহীতাদের প্রধান অভিযোগগুলোর অন্যতম হলো যথাসময়ে সেবা না পাওয়া। এ কারণে নামজারি (মিউটেশন), ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খতিয়ান ও নকশা প্রদান এবং রেকর্ড সংশোধনসহ সব ধরনের সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা জেলা প্রশাসকদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভূমি কার্যালয়গুলো দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যমুক্ত রাখার জন্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো দপ্তর বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ে আসা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে সম্মানজনক ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিতকরণ এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।
ডিজিটাল ভূমিসেবার পরিধি প্রসারে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনাসহ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবাগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি ভূমি অফিসে সেবার নির্ধারিত সরকারি ফি, আবেদনের প্রক্রিয়া ও সেবাপ্রাপ্তির সময়সীমা সম্বলিত তথ্যফলক বা সিটিজেন চার্টার প্রকাশ্য ও দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দপ্তরের নেটওয়ার্ক, সার্ভার সংযোগ এবং কম্পিউটারসহ অন্যান্য আইসিটি সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
অভিযোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’-এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো নাগরিক অভিযোগ দায়ের করলে তা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া অফিসের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা, সরকারি নথি ও রেকর্ড রুম আধুনিকায়ন, এবং ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে সেগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পরিবীক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত ভূমি আইন, বিধি ও মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার দায়িত্বও জেলা প্রশাসকদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ডিসিদের নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম, সীমাবদ্ধতা বা গুরুতর দুর্নীতির প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত পদক্ষেপ লিখিতভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ রয়েছে। তদারকি কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, সেবার অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মাঠ পর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্ব ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানো সম্ভব। সরকারের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম জোরদার এবং মাঠ প্রশাসনের সার্বিক নজরদারির মাধ্যমে একটি জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও জনমুখী ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026