রাজধানী প্রতিবেদক
নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ‘মহিলা বাস সার্ভিস’-এ (পিংক বাস) পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করা হয়েছে উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার সফল প্রদর্শন করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের বিশেষায়িত হাই-পারফরম্যান্স ডিভাইসের মাধ্যমে এই সংযোগ স্থাপন করেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সড়কপথে চলমান অবস্থায় কোনো যানবাহনে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা যায় কি না, তা যাচাই করতেই মূলত এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক অত্যাধুনিক সংযোগ প্রযুক্তির এটিই প্রথম সরাসরি প্রয়োগ। সফলভাবে এই সংযোগ চালু হওয়ায় যাত্রীরা চলন্ত বাসে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই তথ্য আদান-প্রদান ও ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বিএসসিএলের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় স্থাপিত এ স্টারলিংক ডিভাইসের মাধ্যমে বাসের অভ্যন্তরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন দূরপাল্লার সড়ক বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে প্রচলিত ফোরজি বা ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাথমিকভাবে একটি বাসে এই ব্যবস্থা স্থাপন করা হলেও এর কার্যকারিতা ও গতি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বহরে থাকা অন্যান্য গাড়িতেও তা সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, আধুনিক গণপরিবহন গড়ে তুলতে শুধু যানবাহনের মানোন্নয়ন নয়, যাত্রীদের আধুনিক নাগরিক সুবিধা দেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির নারী যাত্রীর যাতায়াত সহজ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বান্ধব করতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ট্রেন, দূরপাল্লার বাস ও নৌযানের মতো চলমান বিভিন্ন গণপরিবহনেও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহারের সম্ভাব্যতা এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি পরিবহন সেবায় এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সংযোজন দেশের সার্বিক ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে গণপরিবহনে এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।