বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করবেন। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হলো।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পোর্টালে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের ভোটদানের আনুষ্ঠানিক নিয়মাবলি সম্পর্কে অবহিত করবেন।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটদান প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যরা মূল ব্যালট পেপারের পাশাপাশি নির্ধারিত মুড়ি অংশে স্বাক্ষর করবেন। ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে মুদ্রিত থাকবে, যেখানে সংসদ সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী ভোট প্রদান করে ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।
ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যালট গণনা কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বৈধ ও বাতিল ব্যালটের হিসাব সম্পন্ন করে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নির্বাচনকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করবেন। নির্বাচনের সামগ্রিক বিধিবিধান, সর্বশেষ সার্কুলার ও ফলাফল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দেখতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ভিজিট করে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা যাবে।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর দেশে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। ফলে ৩৫ বছর পর দুই রাজনৈতিক শিবিরের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।