শিক্ষা ডেস্ক
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের আনন্দমুখর ও খেলাধুলার মাধ্যমে পাঠদান নিশ্চিত করতে আগামী শিক্ষাবর্ষগুলোতে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে তাঁদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পে-স্কেল বা আলাদা বেতনকাঠামো চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নতুন পাঠ্যবই চালুর বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের নতুন তিনটি বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরবর্তী ধাপে, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণির পাঠ্যক্রমেও ‘খেলাধুলা’ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন এই চারটি পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নির্ধারণ, পরিমার্জন এবং কার্যকর শিক্ষাক্রম প্রণয়নের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক স্তর থেকেই সৃজনশীল, আধুনিক ও চাপমুক্ত শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া আনন্দভিত্তিক শিক্ষাদান কার্যক্রমটি পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক স্তরের শুরু থেকেই সমন্বিত করা হবে। শিশু-কিশোরদের সুষম শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজধানীর পূর্বাচলে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে এবং একটি আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। তাই শিক্ষকদের উপযুক্ত মূল্যায়ন ও তাঁদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ ও স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করছে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাশক্তি বাড়াতে খেলাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের কার্যকারিতা তুলে ধরেন। তিনি চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে জানান, সেসব দেশে পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক ধারণাকে সরাসরি নির্দিষ্ট খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয় উপায়ে জটিল বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের বাস্তবতায়ও এ ধরনের বাস্তবমুখী ও আনন্দদায়ক শিক্ষণ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।